Tuesday, November 12, 2013

সবচেয়ে দূরবর্তী ছায়াপথের সন্ধান লাভ!

সবচেয়ে দূরবর্তী ছায়াপথের সন্ধান লাভ!
বিগ ব্যাং এর মাধ্যমে আমাদের মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রায় ৭০০ মিলিয়ন বছর পরে, বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত জানা তথ্যমতে সবচেয়ে দূরবর্তী ছায়াপথের সন্ধান পেয়েছেন। আর এই ছায়াপথে আমাদের নিজেদের ছায়াপথের চেয়ে অনেক বেশি নক্ষত্র তৈরি হয় এবং অনেক দ্রুত গতিতে। আর প্রায় ১৩ বিলিয়ন বছর পরে বিজ্ঞানীরা এই দুর্দান্ত গতির ছায়াপথের সন্ধান পেয়েছেন। আর জ্যোতির্বিদরা এর নাম দিয়েছেন z8_GND_5296 গত মঙ্গলবার নেচার প্রকাশিত গবেষণাপত্রে গবেষকরা বলেন, নতুন আবিষ্কৃত এই গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বোঝা গিয়েছে যে, আমাদের মহাবিশ্ব এর প্রাথমিক অবস্থায় অনেক বেশি নক্ষত্র তৈরিতে সক্ষম ছিল।

"
এই ধরনের একটি ছায়াপথ অপ্রত্যাশিত", মূল গবেষণা লেখক স্টিভেন ফিঙ্কলেস্টাইন যিনি অস্টিনের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক বলেন, আদিম মহাবিশ্বে আমাদের ধারণার চেয়েও বেশি পরিমাণ নক্ষত্র তৈরির স্থান ছিল। দৃশ্যমান আলো প্রতি সেকেন্ডে লাখ ৮৬ হাজার মাইল দূরত্ব অতিক্রম করে। সেই হিসেবে z8_GND_5296 নামের এই দূরবর্তী গ্যালাক্সি থেকে হাওয়াই এর W.M. Keck Observatory তে আলো আসতে প্রায় ১৩ বিলিয়ন বছর লেগেছে! আর যেসময়ের আলো বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণের ধরা পড়েছে সেটি এই গ্যালাক্সির একদম শুরুর সময়ের।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক নবীন রেড্ডি বলেন, এতদিনে এই সবচেয়ে দূরবর্তী গ্যালাক্সি বা ছায়াপথটি বিশাল আকার ধারণ করেছে, এর ভেতরের গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এটি আর নক্ষত্র তৈরি করতে পারার কথা নয়। আর এই ছায়াপথের অবস্থান নির্ধারণের জন্য বিজ্ঞানীরা MOSFIRE বা the Multi-Object Spectrometer for Infra-Red Exploration প্রযুক্তি ব্যবহার করেন।

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক ডমিনিক রিয়েচারস বলেন, z8_GND_5296 ছায়াপথের আবিষ্কার খুব দূরবর্তী ছায়াপথ নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন যুগের সূচনা করবে। তিনি আরো বলেন, এই দশকের মাঝেই James Webb Space Telescope উৎক্ষেপিত হলে আরো সহজে দূরবর্তী ছায়াপথগুলো নির্ণয় করা যাবে। আর এই টেলিস্কোপের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দূরবর্তী ছায়াপথ নিয়ে গবেষণা আরো তরান্বিত হবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

আর মহাশূন্যের এই দূরবর্তী ছায়াপথ গুলো নিয়ে যত বেশি জানা যাবে ততই আমরা এই মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কে আরো বেশি জানতে সক্ষম হবো



তথ্যটি একটি অনলাইন পত্রিকা হতে সংগৃহীত 
 

No comments:

Post a Comment